জীবন পরিচিতি
শহীদ আইয়ুব আলী দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার কুলানন্দপুর গ্রামের হাজী মফিজ উদ্দিনের কনিষ্ঠ পুত্র। তিনি সচ্ছল ও সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক স্বচ্ছলতার কারণে পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্ররাজনীতি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পান।
তিনি গাইবান্ধা সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পাস করেন। কলেজজীবনে তিনি গাইবান্ধা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের এজিএস (AGS) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজে অধ্যয়ন করেন এবং ১৯৬৮ সালে দ্বিতীয় বিভাগে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এ সময় তিনি কলেজ ছাত্রলীগের নির্বাচিত জিএস (GS) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর দিনাজপুর ল' কলেজে আইন বিষয়ে অধ্যয়নকালে দিনাজপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধ ও শাহাদাত
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি স্বাধীনতার পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেন। যুদ্ধের একেবারে সূচনালগ্নে ঘোড়াঘাট থানার রানীগঞ্জ বাজারে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গুলিতে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। পরবর্তীতে গঠিত মুক্তিযোদ্ধা কমিটির পূর্বেই তিনি ঘোড়াঘাট থানার প্রথম শহীদ হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন।
শহীদ আইয়ুব আলী স্মৃতি সংসদ ও পাঠাগার
শহীদের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ২০০১ সালে স্থানীয় ছাত্র-জনতার উদ্যোগে "শহীদ আইয়ুব আলী স্মৃতি সংসদ ও পাঠাগার" প্রতিষ্ঠিত হয়। পাঠাগারের জন্য জমি দান করেন শহীদের বড় ভাই মৌলভী আব্দুল লতিফ। ভবন নির্মাণের জন্য সর্বাধিক টিন প্রদান করেন শহীদের ভাতিজা মাফিজুল ইসলাম।
পরবর্তীতে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুর রহমান চৌধুরীর সহযোগিতায় "শহীদ আইয়ুব আলী স্মৃতি সংসদ ও পাঠাগার" সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারি নিবন্ধন লাভ করে। পরে ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থায়নে আওয়ামী লীগ নেতা জহুরুল হক সরকার (জহুরুল মাস্টার) পাঠাগারের সামনে একটি স্মারক নামফলক স্থাপন করেন। তবে পরবর্তী সময়ে অডিটসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কারণে পাঠাগারের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়ে অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ে।
পাঠাগারের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম
- শহীদ আইয়ুব আলী স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট: এই টুর্নামেন্টের সফল আয়োজন ও ধারাবাহিকতা রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখেন প্রভাষক এনামুল হক কবির (দাউদপুর কারিগরি কলেজ)।
- শিক্ষাবৃত্তি প্রদান: চতুর্থ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদান করা হতো। কার্যক্রমটি পরিচালনা করতেন প্রভাষক মতলুবর রহমান (মোগরপাড়া ডিগ্রি কলেজ) এবং মোঃ ইউনুস আলী, সহকারী শিক্ষক, কুলানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
- বই পড়া প্রতিযোগিতা ও বই বিতরণ: চরিত্র গঠন ও জ্ঞানচর্চার উদ্দেশ্যে নিয়মিত বই পড়া প্রতিযোগিতা এবং বই বিতরণের আয়োজন করা হতো।
- বিনামূল্যে কোচিং কার্যক্রম: শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে কোচিং পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন প্রফেসর ড. জামিরুল ইসলাম জামির, সমাজকর্ম বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট।
- বিনামূল্যে কোরআন শিক্ষা: এই কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন মিজানুর রহমান বকুল।
- বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম: রাত্রিকালীন বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সহযোগিতা করেন প্রভাষক মতলুবর রহমান, প্রভাষক মোঃ গোলাম মোস্তফা (ঘোড়াঘাট কে.সি. পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ) এবং প্রভাষক মোঃ হাবিবুল সরকার (ভাদুরিয়া কলেজ)।
- বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: এই কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা করেন তৎকালীন ১নং বুলাকীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আফজাল হোসেন সরকার।
- বিধবা পুনর্বাসন ও দরিদ্র কন্যাদের বিয়েতে সহায়তা: এই মানবিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন মৌলভী মোঃ আবুল লতিফ, সহকারী অধ্যক্ষ (বলগাড়ী ফাজিল মাদ্রাসা), মোঃ মহসিন আলম (সহকারী শিক্ষক, দিনাজপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়), মোঃ তাসনীম আলম (প্রভাষক, ঘোড়াঘাট মহিলা কলেজ) এবং মোঃ মেজবাহুল আলম (বিএসসি শিক্ষক, ঘোড়াঘাট কে.সি. পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ)।
- স্বাস্থ্যসচেতনতা ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা: সবার জন্য স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. খোরশেদ আলম, মেডিসিন বিভাগ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।
- বার্ষিক ইফতার মাহফিল: প্রতি বছর সকলের অংশগ্রহণে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হতো। এ আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সদরুল সরকার (হেলথ ইন্সপেক্টর) এবং প্রভাষক হজরত আলী (মোগরপাড়া ডিগ্রি কলেজ)।
অন্যান্য কার্যক্রম
এছাড়াও এলাকায় মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে সার্বিক সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রঞ্জিত কুমার দাস এবং চেয়ারম্যান মোঃ আফজাল হোসেন সরকার।
মাদক ও জুয়া প্রতিরোধ আন্দোলনে সাহসিকতা ও সক্রিয় ভূমিকার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রঞ্জিত কুমার দাসের কাছ থেকে সম্মাননা লাভ করেন মিজানুর রহমান, জহুরুল ইসলাম, জাকিরুল সরকার, তুহিন সরকার, মরহুম জুয়েল সরকার, সাখাওয়াত, আমিনুল মাস্টার, শরিফুল, হাবিবুর, ইউনুস মাস্টার, আলমগীর, বকুল, ফিরোজ, মোঃ আরিফুজ্জামান, আব্দুল্লাহ, মোশাররফ মিস্ত্রি, মোরসেলিম, মরহুম নজমলসহ আরও অনেকে।
পাঠাগারের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন রবিউল, রাশেদুল, মাসুদুল, আতিউর, কাওসার, জায়েদ, শাফিউল, রুবেল মিয়া, তারিকুল ইসলাম লিটন, হজরত আলী, অজুত মিয়া, আশিকুর, রায়হান, মহাবুল এবং মিনহাজুল ইসলাম।
নারী সদস্যদের মধ্যে হাজেরা, কবিতা, মহসিনা, লাবণ্য, লিজা, জুলেখা ও নাজিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
এছাড়া শাফিউল ভাই, মরহুম বাবলু ভাই, মরহুম মামুন ভাই, শ্রীচন্দ্রপুরের মেম্বারসহ আরও অনেকে নেপথ্যে থেকে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিয়ে পাঠাগারের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করেন।
পাঠাগারে অসংখ্য বই প্রদান করেন কবিরুল ইসলাম কবির, সভাপতি, ইসলামী ছাত্রশিবির, আমির আলী হল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
সবার আন্তরিক দোয়া ও সহযোগিতায় "শহীদ আইয়ুব আলী স্মৃতি সংসদ ও পাঠাগার"-এর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে—এই প্রত্যাশা রইল, ইনশাআল্লাহ।
📚 বই তালিকা
কোড, নাম বা লেখক দিয়ে বই খুঁজুন
🔖 বই বুকিং
বই নেওয়া ও ফেরতের হিসাব রাখুন
🧑🤝🧑 সদস্য তালিকা
নিবন্ধিত সদস্যদের তালিকা দেখুন
💛 অনুদান
অনুদান প্রদান করুন ও তালিকা দেখুন
📊 আয়-ব্যয়
আয়-ব্যয়ের হিসাব ও সারসংক্ষেপ
📢 নোটিশ
সর্বশেষ ঘোষণা ও কর্মসূচি
🏗️ প্রকল্প
চলমান উদ্যোগসমূহ
📷 ফটো গ্যালারি
অনুষ্ঠান ও কার্যক্রমের ছবি